সতর্কতাস্বাস্থ্য টিপস

কোন ঔষধ কিভাবে খেতে হয় | ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ঔষধ খাওয়ার নিয়ম না জানার কারনে বহু রুগীকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখেছি। এর কারন হতে পারে, যে ঔষধের দোকান থেকে ঔষধ কিনেছেন, সে হয়ত আপনাকে লিখে দিতে ভুলে গেছে , অথবা লিখাটি অস্পষ্ট ছিল। তাই আন্দাজ করে রোগী ঔষধ খেয়ে পরেছে বিপাকে। এই লেখাটি মনযোগ সহকারে পড়লে হয়ত আপনি যে ঔষধ খাওয়ার নিয়ম জানতে এসেছেন, শুধু তাই নয় আজ সবগুলো ঔষধের খাওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব।

আপনি যে ঔষধ খোঁজতে এসেছেন, তা ই পাবেন তবে একটা সুত্র শিখে নিতে হবে, যেমন আপনি napa tablet এর খাওয়ার নিয়ম জানতে চাইলেন, এখন আপনাকে জানতে হবে – napa tablet এর জেনেরিক কি ? এটা বুজতে না পারলে নিয়ম জানা কঠিন হয়ে যাবে। তাহলে আগে জেনে নিন জেনেরিক কি ?

ঔষধের জেনেরিক কি

ধরুন rulac tablet এর জেনেরিক জানতে চাচ্ছেন! তাহলে ট্যাবলেটের পাতার পেছনের বড় করে লেখাটি লক্ষ করুন, যেমন rulac tablet এর জেনেরিক কি ,তা দেখতে rulac লেখার নিচে ছোট করে আরেকটি লেখা – তা হল ketorulac এটাই হল রোলাকের জেনেরিক নাম। যেমন Napa Tablet এর জেনেরিক দেখবেন, peracitamol লেখা আছে। এভাবে সব ঔষধের নামের নিচে ছোট করে যে লেখাটি দেখবেন, এটাই জেনেরিক।

ব্যাথার ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ব্যাথার ঔষধগুলোর মধ্যে ডাইক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রুফেন, কেটোরোলাক, নেপ্রক্সেন জাতীয় ব্যাথার ঔষধ সাধারনতঃ দিনে ২ বার, অর্থাৎ সকালে একটা ও রাতে ১ টা খেতে হয়। এসব ঔষধ অবশ্যই ভরা পেটে খেতে হবে। তবে, ন্যাপ্রোক্সেনের সাথে যদি ইসোমিপ্রাজল থাকে, তাহলে খাবার আগে খেতে হবে। ব্যাথার ঔষধ ইটোরিকক্সিব দিনে একবারের বেশী না দেয়াই ভাল। সকল ব্যাথার সাথে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেতেই হবে। অন্যথায় মারাত্মক এসিডিটিতে ভুগতে পারেন।

সতর্কতা – ১৬ বছরের কম বা শারীরিক ওজন কম, এমন বাচ্চাদেরকে কেটোরোলাক ও ইটোরিকক্সিব খাওবেননা। কখনও খালি পেটে কোন ব্যাথার ঔষধ খাবেননা। যেকোন ব্যাথার ঔষধ সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশী খাওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ দিন ব্যাথার ঔষধ খেলে কিডনীতে এফেক্ট পড়তে পারে। তাই ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খাওয়ার চেস্টা করবেন।

এন্টিবায়োটিক খাওয়ার নিয়ম

এন্টিবায়োটিক আমাদের দেশে খুব সহজে কেনা যায়। তাই এনিয়ে কিছু বলে রাখি, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন করবেননা। জানার উদ্দেশ্যে এন্টিবায়োটিক সেবনের নিয়ম জানিয়ে রাখলাম। জেনেরিক অন্য ঔষধের মতই দেখে নিবেন।

এমক্সিসিলিন – ১ টা করে দিনে ৩ বার অর্থাৎ সকালে একটা দুপুরে একটা রাতে একটা, বিরতি না দিয়ে, একটানা ৭ দিন খেতে হবে। ফ্লুকক্সাসিলিন – ৬ ঘন্টা পর পর ১ টা, সময় নির্ধারণ করা জরুরী। খাবার আগে বা পরে যেকোন সময় খেতে পারেন। এই এন্টিবায়োটিক ও ৭ দিন টানা খেয়ে যেতে হবে। সিপ্রোফ্লক্সাসিন – দিনে ২ বার খেতে হবে একটা করে, তবে খাবার ১-২ ঘন্টা আগে অথবা পরে ঔষধ সেবন করা ভাল। ৫-৭ দিন পর্যন্ত খেতে হবে। লিবোফ্লক্সাসিন – এই এন্টিবায়োটিক রোজ রাতে একবার, একটানা ৭-১০ দিন খেতে হবে। এ্যাজিথ্রোমাইসিন – রোজ রাতে একটা একটানা ৩-৫-৭ দিন খেতে হয়। তবে এই এন্টিবায়োটিক এর বহুবিদ ব্যাবহার রয়েছে।

পেটের পীড়া অর্থাৎ ডায়রিয়া বা আমাশয়ে প্রথম দিন একসাথে ২ টা এবং পরদিন থেকে রোজ ১ টা ৫ দিন খেতে হবে। আবার গণোরিয়া এর মতো রোগ এ সিঙ্গেল ডোজ ১ দিন ১ সাথে ২ টা দেওয়া হয়। স্কিন ডিজিজে দীর্ঘ একটি ডোজ দেয়া হয়। এমন কয়েকটি ব্যাবহার রয়েছে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করবেন।

সেফিক্সিম – এটা সেফালোস্পোরিন জাতীয় থার্ড জেনারেশন এর এন্টিবায়োটিক। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত সেবন করবেননা। সকালে একটা ও রাতে একটা, অবশ্যই সময় মেন্টেইন করে একটানা ৭ দিন খেতে হবে। সেফুরক্সিম – এটাও সময় ঠিক রেখে রোজ ২ বার ৭ দিন খেতে হবে। সেফরাডিন ৬ ঘন্টা পর পর দিনে ৪ বার একটানা ৭ দিন খেতে হবে।

ঘুমের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ঘুমের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম বলার আগে, একটু বলে নিই – ঘুমের ঔষধ বলতে কিছু নেই! এনজিটি সহ বিভিন্ন মানষিক প্রশান্তির ঔষধ খেলে, ঘুম আসে। তবে এগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত সেবন করলে, মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। তাই দোকান থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধকেনা যায়না। শুধু জানার জন্য নিয়মগুলো লিখতেছি – ক্লোনাজিপাম ০.৫ মিগ্রা ট্যাবলেট রোজ রাতে একটি খেতে হবে। ১০-১৫ দিন খেলে ঘুম স্বাভাবিক হওয়ার কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
X