সতর্কতা

মোটা হওয়ার ঔষধ খাচ্ছেন ? পুরুষত্ব শেষ! নারী হলে আরও বিপদ!

মোটা হওয়ার ঔষধ খাচ্ছেন ? পুরুষত্ব শেষ! প্রতিবেশীকে এখনি নিষেধ করুন।
আজকাল অসংখ্য নারী কিংবা পুরুষ, নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে এতটাই চিন্তিত! যে, যেকোন উপায়েই হোক মোটা হতেই হবে। তাই সেই ভাই-বোনদের বলছি মোটা হওয়ার ঔষধ খাচ্ছেন? আপনি পুরুষ হলে পুরুষত্বের আশা ছেড়ে দিতে পারেন। নারী হলে, আপনার এবং আপনার সন্তানের উপর প্রভাব পরতে পারে। এটা জেনে রাখুন!

হারবাল, ইউনানী বা আয়ুর্বেদিক ঔষধের নামে বাজারে যে ঔষধগুলি পাওয়া যায় তা আসলে এসব ফর্মুলায় তৈরী হয়না। এগুলোতে কিছুটা হার্বস থাকতে পারে, তবে এই আদর্শ চিকিৎসা ব্যাবস্থার নাম ব্যাবহার করে, কিছু মুনাফাখোর এলোপেথিক ঔষধ মিশিয়ে, তাৎক্ষনিক ফলাফল দেখিয়ে সাধারন রোগীদের সাথে প্রতারনা করছে। আসলে প্রতারনা বললে কম হবে, কারন তারা তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। এবং তারা এটাও জানে এই স্টেরওয়েড ঔষধ মানুষের শরীরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের মধ্যে সচেতনতা না থাকায় অথবা স্টেরয়েডের প্রভাব সম্পর্কে না জানায়, আমরাও দেদারসে মাসের পর মাস এগুলো খেয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছি।

স্টেরয়েড সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা-

স্টেরয়েড মুলত মানুষের কিডনির একটা অংশ থেকে উৎপাদিত রসায়ন। যা জীবন টিকিয়ে রাখার অনেক কাজে আসে। আমরা যখন কোন জটিল বা সহজে সেরে যেতে চায়না এমন অসুখে ভূগি তখন দেখি ডাক্তারগন রোগের নির্ধারিত ঔষধের সাথে যেকোন স্টেরয়েড লিখে দেন। কারন তিনি বুজতে পারলেন, রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত স্টেরয়েড উৎপাদন হচ্ছেনা। তাই অল্প কয়েকদিনের জন্য এই স্টেরয়েড লিখে দেন।

আবার অনেক সময় আমরা দেখতে পাই, গ্রামের কিছু ঔষধ বিক্রেতা, ব্যাথার জন্য প্রেডনিসোলন, এলার্জির জন্য ডেক্সামেথাসন, শ্বাসকস্টের জন্য হাইডোকর্টিসন জাতীয় ঔষধ দিনের পর দিন রোগীর উপর প্রয়োগ করে আসছেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে। এর কিছুটা যুক্তি তারা সাধারন মানুষকে দেখায় যা হলো- কোন প্রেসক্রিপশনে অনেক বড় স্পেশালিস্ট ডাক্তারগনও এই জাতীয় ঔষধ লিখে থাকেন! এই যুক্তিটা কিছুটা ঠিক আছে। তবে পুরোটা নয়! কারন, ঐ ডাক্তার স্টেরয়েড লিখেছেন সত্য! তবে অল্প কয়েকদিনের জন্য। তিনি মাসের পর মাস খেতে বলেননি। স্টেরয়েড এর ঘাটতি পুরন করার প্রয়োজনে ৫-৭-১০ বা সর্বোচ্চ ১৫ দিন হতে পারে। এর পর সেবন করতে হলে, পরিক্ষা নিরীক্ষা করে ডোজ কমিয়ে, ডাক্তারগন ঠিক করে দিবেন।

মোটা হওয়ার ঔষধ সম্পর্কে :

এবার আসি মুল কথায়! মোটা হওয়ার ঔষধ সম্পর্কে!
আমাদের গ্রাম গঞ্জের কিছু কিছু ঔষধ বিক্রেতা মুখে রুচি কম বলার সাথে সাথে, বড় একটা সিরাপ অথবা এক কৌটা রুচির টেবলেট এই প্লাস, সেই প্লাস বা কত ফলের নামের ঔষধ যে আছে, তা আপনার হাতে ধরিয়ে দেয়। কাউকে ১ টা করে ৩ বার, কাউকে ২ টা করে ২ বার ডোজ লিখে দেয়। এই টেবলেট গুলিতে অতিরিক্ত মাত্রায় সিপ্রোহেপ্টাডিন ( যা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ) ও স্টেরয়েড দেয়া থাকে।

গ্রামের ঐ ঔষধ বিক্রেতার এই ঔষধের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে না জানায় বা এই ঔষধ প্রস্তুতকারীরা ভুলবাল বুজানোর কারনে, তারাও না জেনে সাধারন মানুষকে ঔষধগুলো দিয়ে আসতেছেন। এর জন্য শুধু তারাই দায়ী নয়! দায় আছে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও, যাদেরকে ফাকিঁ দিয়ে এই ঔষধগুলি অন্য কোন ঔষধের গ্রুপ বা জেনেরিক নাম দিয়ে তৈরী করে আসছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও ঔষধগুলির ধারনা থাকা উচিৎ ছিল, তাহলেই এসব তৈরীতে ফাঁকি দিতে পারতনা।

যা বুজাতে চাইলাম :

মোটা হওয়ার ঔষধ সম্পর্কে লিখলে অনেক লিখা যায়, সংক্ষেপে যতটুকু পারলাম, ততটুকুই লিখে বুজাতে চাইলাম ” মোটা হওয়ার ঔষধ খাচ্ছেন মানে বিষ খাচ্ছেন। এটা আস্তে আপনাকে খুড়ে খুড়ে খাবে। হাড় নরম করবে, ফুসফুসে পানি আসবে, অকালে বার্ধক্য চলে আসবে, ভুড়িতে চর্বি হবে, রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধবে, টিউবারকোলসিস বা টিবি রোগ ও হতে পারে, এন্টি অক্সিডেন্ট বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। যৌনশক্তি বিনষ্ট হতে পারে। সব মানুষ একে অপরের ভাই! তাই সবাইকে জানিয়ে কর্তব্য ও দায়ীত্ব! তাই এখানে শেয়ার করলাম। আপনিও শেয়ার করতে পারেন।

আর হ্যাঁ! সময় থাকলে, মোটা হওয়ার প্রো-ভার্সন টিও পড়ে নিয়েন। না হয় ফেঁসে যেতে পারেন। রোগবালাই এ ক্লিক করে একটু ঘাটলেই পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 15 =

Back to top button