রোগ নির্নয়সাধারন জ্ঞানস্বাস্থ্য টিপসহারবাল

আইবিএস কি, এবং এ থেকে পরিত্রানের উপায়!

আই বি এস এর পুরো নাম হচ্ছে, ইরিটেবল ভাওয়েল সিনড্রোম। আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম পেটের একটি পরিচিত ও বিরক্তিকর সমস্যা। আমাদের আশপাশে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত দীর্ঘদিন কষ্ট পান, কোনো সুফল না পেয়ে একজনের পর একজন চিকিৎসক পরিবর্তন করতে থাকেন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়।

আই বি এস এর কারন :

এখন পর্যন্ত IBS আইবিএসের সঠিক কারণ ভালোভাবে জানা যায়নি। তবে কিছু থিওরি রয়েছে। পরিপাকনালির পেশির অস্বাভাবিক সংকোচন, প্রসারণ, স্নায়ুর সংকেতজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ, পরিপাকতন্ত্রের সহজাত ও উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তন ইত্যাদি কারণ শনাক্ত করা হয়েছে এর পেছনে। তবে অনেক খুঁজেও পরিপাকতন্ত্রে কোনো বড় সমস্যা পাওয়া যায় না বলে কারণ অনুসন্ধানে কোনো লাভ নেই।

আইবিএস নির্নয় :

পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা ibs আইবিএস নির্ণয় করতে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ বা রোম ক্রাইটেরিয়া ব্যবহার করে থাকেন। এই রোগ দুই রকম হতে পারে, যেমন আইবিএস ডি, যেখানে পেটে ব্যথার সঙ্গে পাতলা বা নরম পায়খানা হয় এবং আইবিএস সি, যেখানে পেটে ব্যথার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে।

কারও কারও দুটিই থাকতে পারে। রোগের লক্ষণ ও ইতিহাস শুনে রোগ শনাক্ত করা হয়, তবে এর সঙ্গে অনেক সময় কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করতে হয় যে অন্য কোনো পরিপাকজনিত রোগ বা জটিলতা নেই। বেশির ভাগ পরীক্ষারই রিপোর্ট স্বাভাবিক পাওয়া যায়।

এসব খাবেননা :

যেসব খাবারে পেটের সমস্যা বাড়ে, সেসব এড়িয়ে চলুন। দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, শাক, অতিরিক্ত তেলে ভাজা বা ডিপ ফ্রাই খাবার, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, বেকারি, কৃত্রিম চিনি, ক্যাফেইন ইত্যাদি এড়িয়ে চলা ভালো।

চিকিৎসা :

এলোপেথিক চিকিৎসায় এরোগ আরোগ্য হয়না। তাই বাধ্য হয়ে আয়ুর্বেদীক বা কবিরাজি চিকিৎসায় আসতে হয়। প্রথমেই নিজের চিকিৎসা নিজে কিভাবে করবেন, তা বলে দিচ্ছি।
বাজার থেকে বানিয়াতির দোকান বা ফুটপাতেও পেতে পারেন, আমলকি, হরতকি, বহেরা, বেলশুঠ, ইসুবগুল, তোখমা, তালমাখানা ও কাতিলা সমপরিমান কিনে নিবেন। এগুলো শুকিয়ে গুড়া করে নিবেন।

প্রতিদিন সকালে ও রাত্রে ১-২ চামচ গুড়া ১ গ্লাস পানিতে নেড়ে ২ মিনিট ভিজিয়ে নিয়ে খেয়ে নিবেন। ( ২-৩ মাস )
এবং সাথে যেকোন ভাল কোম্পানীর কুটজারিস্ট ২ চামচ করে দিনে ২ বার খাবেন। ( ২ মাস )
অনেক কবিরাজ আছেন যারা এখনও, জঠিল রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। তাদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।

কি হতে পারে :

যদি এর চিকিৎসা সময়মত না করেন, এর থেকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, আপনার শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যাবে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিবে। হাড়ের জোরায় ব্যথা হবে। যৌনদুর্বলতায় ভুগবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। তাই দেরী করা উচিত নয়। ভাল ডাক্তার দেখিয়ে, চিকিৎসা করানো উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =

Back to top button