রোগ নির্নয়সাধারন জ্ঞানস্বাস্থ্য টিপস

কিডনী প্রদাহ একটি মারাত্মক রোগ!

কিডনী মানবদেহের একটি মুল্যবান সম্পদ। অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য ও দূষিত জলীয় পদার্থ শরীর থেকে ছেঁকে, প্রশ্রাবের মাধ্যমে অপসারিত করে, যে অঙ্গ বা যন্ত্রের দ্বারা তার নাম কিডনী। কিডনী প্রদাহ নিয়ে নিন্মে কিছু তথ্য, উপসর্গ, প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করবো।

কিডনীর কাজ :

কিডনী আমাদের রক্ত পরিস্কার করার কাজ করে। আমরা যতই পানি বা পানিজাত পদার্থ পান করি না কেন, শরীরের চাহিদা অনুযায়ী জমা রেখে, বাকিটুকু প্রশ্রাবরুপে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। যদি কোন কারনে শরীর থেকে ঐ পানি বের হতে অসুবিদা হয়। তাহলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সেই সাথে বিভিন্ন কোষে পানি জমতে পারে। এর ফলে কোষগুলির নিউট্রিশন বন্ধ হয়ে পচন দেখা দিতে পারে। এর জন্য মৃত্যও হতে পারে।

কিডনী প্রদাহ এর কারন :

অনেক সময় ডিপথেরীয়া, হাম, টাইফয়েড, জ্বর, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, ইরিসিপেলাস, কলেরা, টাইফাস, আমাশয়, এসব রোগ থেকেও প্রদাহ হতে পারে।
স্যাঁত স্যাঁতে পরিবেশ বা অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা থেকেও কিডনী প্রদাহ হতে পারে।
এ্যালকোহল সেবন বা নেশাগ্রস্থরা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবনতা বেশী।
দীর্ঘদিন চর্মরোগে আক্রান্ত থাকলেও কিডনীতে প্রদাহ হতে পারে।
অতিরিক্ত আঘাত ও অতিরিক্ত পরিশ্রমজনিত কারনে কিডনী প্রদাহ হতে পারে।
দীর্ঘদিন ব্যাথানাশক (NSAID) ঔষধ সেবনের ফলেও কিডনীতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
এছাড়াও নানা অজানা কারন থেকেও কিডনী প্রদাহ হতে পারে। নতুন অবস্থায় চিকিৎসা করতে পারলে সফলতার হার প্রায় শতভাগই বলা যায়। কিন্তু ক্রনিক প্রদাহে রোগীকে অনেক ভুগিয়ে তুলে। তরুন প্রদাহ হাঠাৎ করে শুরু হলেও, ক্রনিক প্রদাহ কিন্ত রোগীর অজান্তেই শুরু হয়।

কিডনী প্রদাহ এর লক্ষন :

তরুন প্রদাহে রোগীর ১০৩ – ১০৪ ডিগ্রী জ্বর থাকে, এবং পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত ব্যাথা হয়।
শরীরে রক্তহীনতা দেখা দেয়, ত্বক শুষ্ক ও ফ্যাকাসে হয়। এবং ক্ষুদাহীনতা প্রকাশ পায়।
শ্বাস – প্রশ্বাস দ্রুত হয়, জ্বালাপোড়ার কারনে পেশাব করতে কষ্ট হয়।
মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, ও নাড়ীর গতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
রোগীর বমি ভাব অথবা বমি হয়।
চোখের নিচের পাতা ও পায়ের গেটেতে শোথ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে শোথে সমস্থ শরীর ফুলে যায়।
ঠান্ডা লাগার কারনে কিডনী প্রদাহ হলে, রোগীর সমস্থ শরীরে শোথ দেখা দেয়। শোথ বা পানি জমা বৃদ্ধি পেলে, প্রশ্রাব কম হয়। আবার শোথ কমে গেলে, প্রশ্রাব স্বাভাবিক হয়। কিন্তু তরুন প্রদাহে শোথের কারনে, প্রশ্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রশাব পরিক্ষায় Specific Gravity বৃদ্ধি পায়। Albumin, Epithelium, Fattycast, Blood ইত্যাদি পাওয়া যায়। প্রস্রাবের তলানীতে RBC ও WBC ও পাওয়া যায়। এজন্য প্রস্রাবের রং লাল বা ঘোলাটেও হতে পারে। আবার কখনও স্বাভাবিকও থাকে। Pus cell বেশী হয়।

ক্রনিক প্রদাহ :

ক্রনিক প্রদাহে রোগীর ক্ষুদামান্ধা, আলস্যতা, অজীর্ণতা, অন্ত্রের গোলযোগ, উদরাময়, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি লেগেই থাকে।
দিনশেষে পায়ের গোড়ালী ফুলে উঠে, এবং রাতে বাড়তে থাকে। Ascites plural cavity তে পানি জমে, অন্ডকোষ ও মুখে শোথ দেখা দেয়।
কখনো কখনো পেরিকারডাইটি, পেরিটোনাইটিস, পালমোনারী কনজেশন, মেনিনজাইটিস, রেটিনাইটিস, নিউমোনিয়া, ও হৃদরোগ প্রভৃতি হতে পারে।

চিকিৎসা :

তরুন প্রদাহে রোগী সঠিক চিকিৎসা পেলে, হঠাৎ সুস্থ হয়ে যেতে পারে।
ঠান্ডা লাগা থেকে কিডনী প্রদাহ হলে, উন্নত চিকিৎসায় অল্প দিনেই রোগী সুস্থ হয়ে উঠে। সাধারনত এক থেকে দেড় মাস চিকিসায় রোগী আরোগ্য লাভ করে। তবে দুই মাসের অধিক আক্রান্ত থাকলে, তখন পুরাতন বা ক্রনিক প্রদাহে পরিনত হয়। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী মারা যেতে পারে।

পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা :

রোগীর উপস্থিত উপসর্গগুলো না কমা পর্যন্ত রোগীকে বিছানা থেকে উঠতে দেয়া যাবেনা।
রোগীর পায়ে যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কিডনী প্রদাহ এর সেরা পথ্য হলো – দুধ! ভালভাবে ঝাকিয়ে প্রত্যহ দুধ খাওয়াতে হবে। দুধে এলবুমিন থাকে।
চা, কফি, এ্যালকোহল ও মশলাযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করতে হবে।
লেবুর শরবত খুব উপকারী। ইহা ডাই – ইউরেটিক হিসাবে কাজ করে। ইনফেকশন ও এলবুমিন নিঃসরন কমায়।
সুস্থ হওয়ার এক দুই মাস পর্যন্ত কোনপ্রকার মাংস, ডাল, ও ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকলে ভাল। তবে তরল ঝাউ খাওয়া যাবে। পুরোপুরি সুস্থ হলে, পরে নরম ভাত ও সেদ্ধ ডিম খাওয়া যাবে।
আলু, পটল, মানকচু, ইত্যাদি খাওয়া যাবে।
ভিটামিন সি ( Vitamin C) দৈনিক এক থেকে দেড় গ্রাম খেতে হবে। বা ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − three =

Back to top button