সতর্কতাসাধারন জ্ঞানস্বাস্থ্য টিপস

সিফিলিস একটি গুপ্তঘাতক রোগ!

সিফিলিস একটি যৌন সংক্রান্ত মারাত্মক রোগ। নারী পুরুষ উভয়েই এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এরোগ একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হয়। বয়স্কদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

সংক্রমিত হওয়ার কারন :

সাধারনতঃ যৌনমিলন এর সময় ঘর্ষনের ফলে, অনেক সময় যৌনাঙ্গ ছিলে গেলে, ঐ স্থানে সিফিলিস এর জীবানু কতৃক আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সিফলিজ আক্রান্ত স্ত্রীলোকের গর্ভধারন থেকে সন্তানেরও Syphilis জীবানু সংক্রমিত হয়। অনেক সময় গর্ভপাতও হয়ে যায়। এক পর্যায়ে রুগ্ন শিশুর জন্মও হতে পারে।
এই রোগে আক্রান্ত শিশুর শরীরে বিভিন্ন রকম ঘা দেখা দেয়। কানে কম শুনতে পায়। চোখে কম দেখা সহ, অনেক রোগ স্থায়ী হয়ে থাকে। এটাকে জন্মগত Shyphilis বলা হয়।

সিফিলিস এর লক্ষন :

সহবাস করার ২-৩ মাসের মধ্যে Syphilis এর প্রকাশ পাওয়া যায়। যৌনাঙ্গে লাল শক্ত গোটা হয়। এতে ব্যাথা হয়না। তবে কাপড়ের ঘর্ষনের ফলে ছিলে গিয়ে ঘা হয়। রস নির্গত হয়, ক্ষতস্থান শক্ত লাগে। ২-৩ মাসের মধ্যে ভাল হলেও ক্ষত চিহ্ন থেকে যায়।

শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে। স্তনের বোটায়, গলায়, ঠোঁটে, অথবা মলদ্বারেও হতে পারে। এসব ক্ষতস্থানে অসংখ্য জীবানু থাকে। পরবর্তীতে চামড়ায় ইরাপশন হতে পারে। এবং ইরাপশন শক্ত হয়ে পেকে পুঁজ সৃস্টি করতে পারে। মাঝে মধ্যে জ্বর আসতে পারে। সর্দি, কাশি, গলা ভাঙ্গা এসব দেখা দিতে পারে।

সাবধানতা :

এ পর্যায়ে লিস্ফগ্লাণ্ড, গলা, চোখের আইরিশ,
এসব স্থানে সংক্রমিত হতে থাকে। আবার দেহের ভেজা অংশে, বিশেষ করে স্ত্রীলোকদের যোনীদ্বারে, মলদ্বারে, সংক্রমিত হওয়ার প্রবনতা বেশী থাকে। ঐ স্থানের চামড়া ফুলে যায়।

সর্বশেষ লক্ষন :

অনেক সময় সংক্রমিত হওয়া ৩-১০ বছরের মধ্যেও রোগ প্রকাশ পেতে পারে। তখন এই রোগ সারিয়ে তুলা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রোগীর রক্তবাহী শিরায় প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। এবং শিরার ছিদ্রগুলিকে সরু করে ফেলে। ফলে স্বাভাবিক রক্তচলাচলে বাধাগ্রস্থ হয়ে, পচনের সৃস্টি হয়। এটাকে গামা বলা হয়। ইহা সাধারনতঃ মুখমন্ডল ও হাটুর নিচে দেখা যায়।

পরীক্ষা নিরীক্ষা :

সিফিলিস রোগ সঠিকভাবে নির্নয়ের জন্য, সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করতে হয়।
Washerman Reaction test.
khan test.
VDRL, Urine R/M.
এছাড়াও আরও পরীক্ষা আছে।
Treponema palidum immobilisation.
Teponema palidum Complement fixation test.
Relter Protein Complement Fixation test.

চিকিৎসা :

সিফিলিস এর চিকিৎসার জন্য ভাল কোন চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হতে হবে।
হোমিওতেও এরোগের চিকিৎসা হয়।
ভেষজ পথ্য বেশ কিছুদিন অন্যান্য ঔষধের সাথে চালিয়ে যেতে পারেন।
হামদর্দ এর সেবা কেন্দ্র থেকেও চিকিৎসা নিতে পারবেন।

আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা :

চিকিৎসা চলাকালে যৌনমিলন বন্ধ রাখা উচিত। অন্যথায় পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার ভয় থেকে যায়।
নারী পুরুষ উভয়েরই চিকিৎসা করতে হবে।
অনিদ্রা ও নেশা পান এ রোগকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
বেশী মশলাযুক্ত খাবার, মাংস, ও এলার্জি যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
পড়নের কাপড় নিয়মিত এন্টি সেপটিক দ্বারা ধূয়ে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − nineteen =

Back to top button