সতর্কতাসাধারন জ্ঞান

নতুন ফার্ম্মেসী ব্যবসায়ীদের জন্য মুল্যবান টিপস !

অধিকাংশ প্রেশক্রিপশন ই অস্পস্ট থাকে, এটাই ফার্ম্মেসী ব্যবসার বড় বাঁধা। তবুও এখান থেকে সঠিক ঔষধটা রোগীর হাতে তুলে দেয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!
ফার্ম্মেসীর নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য মুল্যবান টিপস নিয়ে আজকের লেখাটা সাজানোর চেস্টা করছি।

ফার্ম্মেসী করার যোগ্যতা :

বেকারত্ব গোছাতে অনেক শিক্ষিত ছেলেরা ফার্ম্মেসী ব্যবসায় ঝুকতে শুরু করেছে। আগে যে বাজারে ২-৩ টা ফার্ম্মেসী ছিল, আজ সেই বাজারে ১০-১৫ টা ফার্ম্মেসী। এটা সাধারন মানুষের জন্য অনেকটা সহজলভ্য ও সুবিধাজনক হলেও, কিছুটা ভয়ের কারনও হতে পারে। কেননা, অনেকেই জানেন, অধিকাংশ ফার্ম্মেসী ব্যবসায়ী কোন না কোন ফার্ম্মেসীর কর্মচারী থেকেই উঠে আসেন। তবে সেটা শতভাগ নয়, আবার কমও নয়। তাই কারো বিপরীতে হলে খারাপ কিছু ভাবা উচিত নয়। সরকার যদিও একটা বিধি বিধান রেখেছে। ফার্ম্মেসী ব্যবসা করতে হলে, একটা যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। আপনাকে ফার্ম্মাসিস্ট হতে হবে। কিন্তু ফার্ম্মাসিস্ট কোর্স অনেক সময়ই বন্ধ থাকে, কিন্তু নতুন ফার্ম্মেসী চালু হওয়া বন্ধ থাকেনা।
প্রশিক্ষনবিহীন কয়েকজন ব্যাক্তির কিছু ভুলের কারনে, লক্ষ লক্ষ উদ্যোক্তার জীবনে নেমে আসে ঝড়।

চিকিৎসায় সতর্কতা :

আমি একবার একলোকের কিছু কথা শুনে রিতীমতো হতবাক হয়েছিলাম, ঘটনাটা এমন ছিল! শুনলে আপনিও অবাক হবেন।
১০ বছরের ১ বাচ্চাকে পায়ের ব্যাথার জন্য ইটোরিক্স ১২০ মিগ্রা টেবলেট দেয়া হয়েছিল।
১ টা খাওয়ার আধঘন্টা পরই বাচ্চাটি, মরে যাই মরে যাই বলে চিৎকার শুরু করলো। অবশেষে হসপিটালিটিতে বিপদ কাটে। যে ব্যাক্তি ঔষধটা দিয়েছিল, সে একটা ফার্ম্মেসীতে কিছুদিন কর্মচারী হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েই, ফার্ম্মেসী খুলেছে। আজকের লেখাটা হয়ত তাদের জন্য নয়, যারা ফরমালিটি রক্ষায় কোন রকম ফার্ম্মাসিস্ট করে এসেছেন, ফার্ম্মেসী দিয়ে বাকিটা শিখবেন, তাদের জন্যও নয়। যারা শিখতে চায় আরও ভালভাবে, শুধু তাদের জন্য একটু সতর্কতা।

ঘটনা বলেছি ট্রিটমেন্টের, লিখবো প্রেশক্রিপশন মেইন্টেন এর কৌশল নিয়ে।
রোগবালাই ডটকম কোন ফার্ম্মাসিস্ট প্রশিক্ষন দিতে পারবেনা, তবে কিছু কৌশল শিখিয়ে দিবে। যেন একটা প্রেশক্রিপশন হাতে পাওয়ার পর, তার ভুলে কোন ঔষধ খেয়ে কারো দূর্ঘটনা না ঘটে।

ক্রেতার হাত থেকে প্রেশক্রিপশন পেয়ে প্রথমে যা করবেন-

অধিকাংশ প্রেশক্রিপশন ই অস্পস্ট থাকে, এটাই ঔষধ ব্যবসার বড় বাঁধা। তবুও এখান থেকে সঠিক ঔষধটা রোগীর হাতে তুলে দেয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ! আর এতে একটু ভুল হলেই রোগীর জীবনে ঘটে যেতে পারে, অপুরনীয় ক্ষতি। তাই ঔষধ দেয়ার ক্ষেত্রে খুব সাবধান থাকতে হবে। প্রেসক্রিপশন হাতে পেয়ে অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে।
ঔষধগুলো দেবার আগে নিশ্চিত হতে হবে, এটা টেবলেট / ক্যাপসুল / সিরাপ / অয়েনমেন্ট / ক্রিম / সাপোজিটরী / ইঞ্জেকশন নাকি ড্রপ।

নাম অস্পস্ট হলেও সঠিকটা বের করবেন কিভাবে ?

নাম অস্পস্ট হলে যা করবেন, ফাস্ট এলফাবেট জানার চেস্টা করুন, এবং লাস্ট কি আছে দেখুন। তাও সম্ভব না হলে, মাঝে থেকে পুজেলের মতো কয়েকটা জানার চেস্টা করুন, তারপর এমজি mg দেখুন, টেবলেট নাকি ক্যাপসুল ফরমেট তাও দেখুন। তারপর দৈনিক মাত্রা দেখুন, তারপর সম্পুর্ন ডোজ কি আছে দেখুন।

তারআগে আবার প্রেশক্রিপশনের উপরে যাবেন, রোগীর বয়সটা দেখে আসবেন। এবং তা থেকে আপনার হিসাব মিলিয়ে দেখুন ঔষধটি কোন জেনেরিকের হতে পারে। DIMS বা পেসেন্ট এইড এপস থেকে একটা সুত্র মুখস্থ করতে পারেন। তা হলো – জেনেরিক + mg, কোন জেনেরিকের mg কত থেকে কত পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তারপর বাকি থাকে, দৈনিক মাত্রা কোন ঔষধের মাত্রা দিনে কতবার হয়। এটা দেখতে হলে আপনাকে কিছু পড়াশুনা করতে হবে। সেটা নিয়ে আরেকদিন লিখবো।
আমি আপনাদেরকে বোঝানোর জন্য, কিছু প্রায় সেইম বা কাছাকাছি নামের ঔষধ উদাহারন হিসাবে দেখাচ্ছি।
যেমন –
Parkirol 2mg (Ropinirole 2mg). Perkifen 10mg (Baclofen 10mg). Parkinil 5mg (Procyclidine 5mg). কাছাকাছি নামের একেবারে ভিন্ন ভিন্ন ঔষধ। এই সব ঔষধ একটার জায়গায় আরেকটা দেওয়া গুরুতর অপরাধ।
অনুরূপভাবে, Flexi 100mg (Aceclofenac 100mg) & Flexibac 10mg (Baclofen 10mg) ভিন্ন ভিন্ন ঔষধ। এরকম এক্সামপল আরও অনেক দেওয়া যাবে।

এগুলো খুব সাবধানতার সাথে, সুকৌশলে মেইন্টেন না করতে পারলে, অনাকাঙ্কিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। ফার্ম্মেসী এর নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য মুল্যবান টিপস দেয়ার মাধ্যমে, এটাই সতর্ক করতে চাই, ঔষধ একটা গুরুত্বপুর্ন মৌলিক পন্য, এর সম্পর্কে অনুমান নয়! সঠিক জেনেই তার ব্যাবহার নিশ্চিত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
X