সতর্কতাসাধারন জ্ঞানস্বাস্থ্য টিপস

লিভার সিরোসিস একটি মরনব্যধি ! কি করবেন জেনে নিন।

লিভার সিরোসিস কি

লিভার সিরোসিস একটি মরনব্যধি ! কি করবেন জেনে নিন।
ইহা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে, লিভারকে একেবারে ডেমেজ করে দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপান, এই রোগের একটা বিশেষ কারন। এবং খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতি, ভিটামিন ভি এর অভাবটাই সাধারনত আমাদের দেশে লিভার সিরোসিসের অন্যতম কারন।
কোলন,মেথিউনিন, প্রভৃতি লাইপোট্রপিক উপাদান লিভারের চর্বির অনুপ্রবেশ রোধ করে, তাই এগুলোর অভাব যকৃতকোষ জমা করে, সিরোসিসজনিত পরিবর্তনের একটা পরিবেশ সৃস্টি করে।
সিরোসিস রোগীদের মধ্যে শতকরা ১০ শতাংশ পিত্তনালীবদ্ধতা বা জীবানুঘটিত প্রদাহের কারনে হয়ে থাকে।

সিরোসিস ২ প্রকারঃ
(১) পোর্টাল সিরোসিস
(২) হাইপারট্রোফিক বিলিয়ারী সিরোসিস।

পোর্টাল সিরোসিসঃ

দীর্ঘদিন যাবত আজেবাজে খাবার বা পুষ্টিহীন ও কেমিক্যালযুক্ত অপরিচ্ছন্ন খাদ্য গ্রহনের ফলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংখা থাকে।
আবার ক্রমাগত রাত্রী জাগরন, মদ্যপান, ধুমপান করলেও পোর্টাল সিরোসিসে আক্রান্ত হতে পারে।
অন্যদিকে হেপাটাইটিস থেকেও এর বিকাশ ঘটতে পারে।

কারনঃ

দীর্ঘদিন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে, লিভার সিরোসিস হয়।
অনেক সময় কোলসিসটাইসিস থেকেও এ রোগ হয়।
ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন জ্বর থেকে প্রথমে হেপাটাইটিস ও পরে সিরোসিস হতে পারে।
অতিরিক্ত মদ, চা, কপি ও ধুমপানের কারনেও সিরোসিস হয়।
দীর্ঘদিন পিত্তশুল বা ব্যাথা থাকলে, সিরোসিসের আশংখা থাকে।
Viral Hapatitis B থেকেও সিরোসিস হতে পারে।
Infaction থেকে portal biliyary Cirrhosis হতে পারে।

লক্ষনঃ

(১) পোর্টাল রক্ত সঞ্চালনে বাঁধা সৃস্টি করে, লিভার বা যকৃতের আকার বদলে যেতে পারে। প্রথমে বড় ও পরে ছোট হয়। এর ফলে লিভার ও পাকস্থলি থেকে রক্তক্ষরন এবং পেটে পানি জমে রোগের লক্ষন প্রকাশ পায়।
(২) লিভারে ব্যাথা, ডান দিকে ব্যাথা, ডান কাঁধে, ডান বুকে, ডান পেটে ব্যাথা হতে থাকে।
(৩) জ্বর, তিক্ত স্বাদ, অজীর্ণ, ক্ষুদাহীনতা দেখা দেয়।
(৪) দীর্ঘদিন এই রোগ লুকায়িত অবস্থায় থাকে। কয়েক বছর পর্যন্ত এই বাসা বেধে বড় হতে থাকে, সবকিছুই অগোছরে থাকে। হঠাৎ তীব্র আকার ধারন করে, রোগীকে অসহায় বানিয়ে প্রকাশ পায়। তখন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কিছুই করার থাকেনা।


(৫) কিন্তু একটু সচেতন হলে, বা কিছু পরিক্ষা নীরিক্ষা করে নিলে হয়ত, প্রকাশ পেতে পারে, এর মধ্যে কিছু লক্ষন হতে পারে – ক্ষুধাহীনতা, বমি বমি ভাব, বদহজম, পেট ফাঁপা, ঢেকুর, ও কোষ্ঠকাটিন্য।
(৬) দেহের রং হালকা মেটে রং বা হালকা হলুদ হতে পারে।
(৭) পুরুষত্বহীনতা দেখা দিতে পারে।
(৮) এভাবে দীর্ঘকাল রোগে ভোগার কারনে, লিভার অকেজো হয়ে হঠাৎ ই রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

হাইপারট্রোফিক বিলিয়ারী সিরোসিসঃ

সাধারনত মধ্য বয়সীরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।এ রোগ ও হঠাৎ করেই আমাদের দৃস্টিগোচর হয়।পিত্তনালীর পথে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার বেড়ে যায় ও নরম হয়। এবং পরে নরম সেলগুলি ফাইবারে পরিনত হয় ও লিভার আবার শক্ত হয়ে যায়।।

লক্ষনঃ

(১) আক্রান্ত ব্যাক্তির জ্বর হয়। ব্যাথাও হতে পারে।
(২) যকৃত এবং প্লীহার সাইজ বৃদ্ধি পায়।
(৩) দেহের রং হলুদ বর্ণ হয় এবং ধীরে ধীরে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়।
(৪) মাঝে মাঝে পিত্ত বমি হয়।
(৫) শীর্ণতা, দূর্বলতা, ও মারাত্মক রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
(৬) পেটে পানি আসতে পারে।

প্রতিকারঃ

চিকিৎসা খুব জটিল ও লাস্ট স্টেজে ধরা পরলে, প্রায় অসম্ভব। তাই প্রথম থেকেই, প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে। পায়খানা ক্লিয়ার রাখতে হবে। ধুমপান, মদ্যপান, ও অতিরিক্ত চা – কপি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

হালকা বদহজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলেও তার সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে। আমি বেস্ট সাজেশন হিসাবে বলে থাকি – হামদর্দের কারমিনা, ও ইকটার্ন দিনে ২ বেলা ১০-১৫ মিলি করে ২-৩ মাস খেতে পারেন। সহজে হজম হয়না, এগুলো এড়িয়ে যাবেন। বেশী তৈলাক্ত খাবার খাবেননা। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স মাঝে মাঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন। ডাব, ইসুবগুল, আখের গুর, সবচেয়ে ভাল পথ্য।

টেস্টঃ

হেপাটাইটিস আছে কিনা জানার জন্য, কয়েকটি টেস্ট করে দেখতে পারেন।
তারমধ্যে hbs Ag ও এলিজা টেস্ট আগে করে নিতে হবে।
পজিটিভ হলে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি হোল এবডোমিন, ও একটি এন্ডোস্কপি করে লিভার দেখে নিতে হবে। তাহলে নিশ্চিত হতে পারবেন, আপনার বর্তমান অবস্থা কি! এবং কি ধরনের ব্যাবস্থা নিতে হবে।

লিভার সিরোসিস একটি মরনব্যধি ! নিয়ে লেখাটি পড়ে কেমন লাগল জানাবেন। রোগবালাই এর ইউটিউব চ্যানেল রেডি হচ্ছে। চাইলে সাথে থাকতে পারেন। সবাই সুস্থ্য থাকলে পরিশ্রম স্বার্থক। কিন্তু তা কি হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − one =

Back to top button